সাকা হাফং সামিট - ২০২১ ( ফেব্রুয়ারি )
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া সাকা হাফং । নামটা খুব বেশিদিন হয়েছে শুনেছি এমন না। এইতো প্রথম নামটার সাথে পরিচিত হই ট্রাভেলারস অফ বাংলাদেশ গ্রুপ টার মাধ্যমে । তাজিংডং কিভাবে যাওয়া যায় সেটা দেখতেছিলাম ২০১৮ বা ২০১৯ এর দিকে । ফেসবুক ওই গ্রুপ টা তে সার্চ দিয়ে পেলাম তাজিংডং এর ভয়াবহতা বর্ণনা করা একটি পোস্ট । কৌতোহল বশত পুরা পোস্ট টা পরলাম । দেখতে পেলাম জোক এর বর্ণনা দেওয়া আছে । তখনো আমার জোক এর সাথে সাক্ষাত হয় নি । হালকা ভয় পেলাম আর গুগল এ সার্চ করলাম কিভাবে জোক থেকে বাঁচা যায় । কিছু সমাধান পেলাম চুন ব্যবহার করে। যাই হোক এরপর আরেকটা পোস্ট পড়তে গেলাম তাজিংডং নিয়ে । হঠাৎ চোখ আটকে গেলো একদল অভিযাত্রী তাজিংডং হয়ে সাকা হাফং গিয়েছে । সরল মনে প্রশ্ন জাগলো এটা আবার কোন জায়গা । উত্তর টা সেখানেই দেওয়া বাংলাদেশ এর অঘোষিত সর্বোচ্চ চূড়া এটা । বাহ ! নতুন জিনিস শেখা হলো। কিভাবে যায় এটায় । পোস্ট পড়তে পড়তে বেশ রোমাঞ্চ কাজ করছিলো। তখন সাকা হাফং এ যাওয়া আমার জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না । কিন্তু আকাশ কুসুম কল্পনা করতে তো আর বাধা নেই না ?
২০২০ এ প্রথম কেওক্রাডং যাই রাজ আহমেদ ভাই, আল ফয়সাল, জোবায়েদ, মিনহাজ সহ আরও কিছু ভার্সিটি বন্ধুদের সাথে । গাইড হিসেবে সাথে ছিলো তৌহিদ ভাই । তৌহিদ ভাই যেমন অসাধারণ মানুষ তেমন সুন্দর গায়ক । তার গল্প হয়ত কেওক্রাডং এর গল্পে লেখার চেষ্টা করবো । এই মানুষটাই আমাকে আমার চোখে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া গুলো প্রথম চিনতে সাহায্য করেছিলো । প্রথম সাকা হাফং দেখি কেওক্রাডং এর হেলিপ্যাড থেকে ।
সেই থেকে মনের ভিতরে একটা সুপ্ত বাসনা জাগিয়ে রাখি একদিন সাকার চূড়ায় যাওয়ার । কখনো ভাবি নাই এত দ্রুতই স্বপ্নপূরণ হবে । নিষিদ্ধের প্রতি আকর্ষণ একটু বেশি থাকে ।
২০২০ সালের অক্টোবর তাজিংডং যাওয়া হয় । কিন্তু মেঘের কারণে দেখা হয় নি সাকা হাফং কে তাজিংডং এর জিং থেকে । সেই গল্প আরেকটা ব্লগ এ লেখার চেষ্টা করবো । এরপর একটা প্ল্যান করা হয় সাকা হাফং অভিযান এর । কিন্তু তখনো আমরা আনাড়ি ( এখনো যদিও ) । রুট সম্পর্কে তেমন ভালো ধারনা নাই। এদিকে বিশেষ বাহিনীর ভয় । সব মিলিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম । যেতে হলে যাওয়া লাগবে সম্পূর্ণ রাস্তা নিজেদের চিনে । এদিকে জিপিএস কিভাবে অপারেট করে তারও আইডিয়া নাই। এমন সময় শিহাব ভাইদের ( কুয়েট এর সিনিয়র ) সাকা জয়ের কাহিনী শুনলাম । রাফি ভাইদের সাথে কথা বলে রুট টা নিলো । কিন্তু সেই বার আমরা ব্যর্থ হই চারজন । সেটা নিয়ে আরেকটা বিস্তারিত পোস্টে লেখার চেষ্টা করবো । আমাদের করা ভুল গুলোও নিয়ে সেখানে আলোচনা করার চেষ্টা করবো কিছুটা । মূলত প্রথম বার করা ভুল গুলো থেকে অনেক কিছু শিক্ষা হয়ে যায়।
প্রথম বার ব্যর্থ হওয়ার পর বাসায় এসে কিছুটা ডিপ্রেশন এ পরে যাই । আর দিন গুনতে আবার আরেকটা চেষ্টা চালানোর জন্য । এদিকে আগের বার যেই চারজন গিয়াছিলাম তার মধ্যে ফয়সাল এসেই পড়াশুনা আর টিউশন এ মগ্ন হয়ে যায় । তাকে ফোন এ পাওয়াই অসম্ভব হয়ে উঠছিল প্রায় । অন্যদিকে ইসমাম তার কোন বড় ভাইয়ের কথা জানায় একদিন গ্রুপে । ইসমাম বলে যে তার ওই ভাই নাকি এখন দুমলং দিতে চায় , তাই সে মানুষ খুজতেছে । ইসমাম আমাদেরকে বলে যে, চল এখন দুমলং দিয়ে দেই পরে সাকা দিবো । এদিকে আমি আর রাফি তখন সাকা দেওয়ার জন্য পাগল প্রায় হয়ে ছিলাম । রাফি গ্রুপের মধ্যে পোল খুলে বসলো সাকা নাকি দুমলং দিবো এটা নিয়ে । আমি আর রাফি আমাদের সিদ্ধান্তে অটল । এদিকে ইসমাম অভি ভাইদের পরিচিত ওই গ্রুপের সাথে যেতে চাচ্ছে । আমরা আর কিছু বললাম না । এদিকে রাফি মেসেঞ্জার কলে একবার বললো, " আমরা দুইজন যে " । আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে বললাম প্রব্লেম নাই ।
প্ল্যান করলাম বৃহস্পতিবার রাত্রে আলিকদমের বাস ধরবো । প্ল্যান অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ১৫ তে "পিক ৬৯" এর
শোরুম এ চলে গেলাম কিছু গিয়ার কেনাকাটা করতে। একখানা মিনি পোর্টেবল চুলা আর একটা নেচারহাইক এর হেডল্যাম্প নিলাম । কিন্তু চুলার বিউটেন গ্যাস ক্যান পেলাম না । দুইদিন পর আসতে বললো।
চলে গেলাম কলাবাগান বাস কাউন্টারে। হানিফ এর বাস কাউন্টারে যেয়ে শুনলাম বৃহস্পতিবারের কোন টিকেট নাই । মাথায় যেনো বাজ ভেঙ্গে পরলো । তাড়াহুড়া করে ফোন দিলাম রাফিকে । রাফি বললো , " তাহলে শুক্রবারের তা নে "। কি আর করার ! নিয়ে নিলাম শুক্রবারের বাসের টিকেট । টিকেট নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে গেলাম মগবাজারে।
পরে দুইদিন পর আবার গেলাম "পিক ৬৯" এ বিউটেন গ্যাস ক্যানটা নিতে। গ্যাস ক্যানটা নিয়ে এসে একটা দোকান এ ঢুকে ৪ টা খেজুর এর প্যাকেট, ১০ টা গ্লুকোজ আর ১২ টা নুডলস কিনে নিলাম । সাকা পুরো অভিযান এর রসদ আমাদের দুইজন এর এতটুকুই।
রাফি আগের দিন চলে গেল কক্সবাজার থেকে আলিকদম। বেলাল ভাইকে বলে বাইক এর ব্যবস্থা করার কথা ছিল । বেলাল ভাই বললো সেই নাকি আমাদের নিয়ে যাবে । রাত্রে বেলাল ভাইয়ের পরিচিত এক বাসায় থেকে গেল রাফি। আর ওই রাত্রের বাসে আমি রওনা দেই ঢাকা থেকে আলিকদম এর উদ্দেশ্যে ।
বাসে খুব একটা শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু করে দেয় ।না ঘুমিয়েই সেই রাত টা পার করে দেই মোবাইল টিপে । বাস প্রচণ্ড দেরি করছিলো । কিছুটা মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল । ৮ টার দিকে যেয়ে পৌছাই আলিকদম বাস স্ট্যান্ড। সাথে সাথে একটা অটো ভাড়া করে চলে যাই পানবাজারে । রাফি সেখানে অপেক্ষা করতেছিল । তখন আমি জানতে পারি যে আমাদের কে বেলাল ভাই ৮ কিলো থানচি-লিকরি রোড পর্যন্ত বাইকে নিয়ে যাবে । সুন্দর মতো একটা দোকান এ ঢুকে ১ টা পরোটা ডাল দিয়ে খেয়ে নিলাম । দেরি করা যাবে না খুব একটা । যত তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় ততই ভালো।
বেলাল ভাইয়ের বাইকে আমরা দুইজন বসে পরলাম । প্রচণ্ড বাতাস। মাঝখানে বসেছি দেখে হালকা টের পাচ্ছিলাম । রাফি কে দেখে বুঝা যাচ্ছিলো কেমন বাতাস ছিল। আস্তে আস্তে পৌঁছে গেলাম থানচি। বেলাল ভাই কে একটা স্টিল এর মগ আনতে বলে , আমি আর রাফি একটা দোকান এ বসে চা খেলাম । কিছুক্ষণ এর মধ্যেই বেলাল ভাই এসে হাজির। এবার বাইক দিয়ে থানচি - লিক্রি রোড দিয়ে এগোতে থাকলাম। বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পর এক পাড়ার মতো চোখে পরল । আমি আর রাফি নেমে গেলাম । বেলাল ভাই বাইক টা নিয়ে ওই অংশটা পার হলো। তারপর আবার বাইকে উঠে একটানে ৮ কিলো চলে গেলাম। ৮ কিলো তে নেমে বেলাল ভাইকে টাকা দেওয়ার জন্য বেশ খানিকটা জোরাজুরি করা লাগলো । অনেকটা জোর করেই তার পকেটে দুইজন এর জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে আমরা ৮ কিলো থেকে বোর্ডিং পাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। একটু ভিতরে ঢুকেই রাফি প্যান্ট পরে নিলো। জিপিএস নেভিগেট করার জন্য মোবাইলটা বের করলাম । রাফি তার মোবাইল বের করে একটা গান ছাড়লো।বোর্ডিং পাড়ার রাস্তা মোটামুটি চেনা আছে। এর আগের মাসে যখন এই রাস্তায় এসেছিলাম তখন বালুর পরিমাণ একটু কম ছিল। এখন মনে হচ্ছে আরও বেড়ে গিয়েছে।
সামান্য একটু ভিতরে ঢুকার সাথে সাথে রাফি দৌড়ে নিচে নামতে যেয়ে একটা আছাড় খেলো । ওর ফোনটা হাত থেকে বালুর মধ্যে পড়ে গেল। ভাগ্যিস! গানটা চলতেছিলো! নাহলে এই বালুর মধ্যে খুঁজতে আরও সময় হয়ত নষ্ট হতে পারত।
সময়ঃ ১০ টা ৩৩ মিনিট , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
সামনে ডানে একটা গাছ নিশানা । এর আগের বার ওই জায়গায় রাস্তা হারিয়ে ছিলাম। এবার আর চিনতে ভুল হলো না । একটু নিচে নামতেই রাফি বললো ওর কয়েকটা ছবি তুলতে । তুলে দিলাম কয়টা ছবি । এদিকে আমার মাথায় ঘুরতেছে গতবার এর বিশ্রী কাহিনী । না জানি সামনে কি আছে ।
| ধুলাবালি তে পড়ে রাফির খারাপ অবস্থা | সময়ঃ ১০.৪৫ | ২০ ফেব্রুয়ারি,২০২১ |
এগুতে থাকলাম আস্তে আস্তে । চারপাশে ছন গুলা যেন প্রকৃতি তে আরও সজীব করে তুলতেছিল। মোবাইলটা দিয়ে একটা ছোট ভিডিও নিয়ে নিলাম।
হাঁটলাম কিছুক্ষণ । মোবাইল এ ভ্লগ এর মতো কিছু করতে চাইলাম। গরিব এর ভ্লগ আরকি! নতুন নতুন শিখতেছি ।
সময়ঃ ১০.৪৬ | ২০ ফেব্রুয়ারি,২০২১
বোর্ডিং পাড়া পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা মোটামুটি অনেক সহজ। তেমন একটা কষ্ট করতে হয় না । মোবাইলে জিপিএস নেভিগেট করতে করতে চলতে গেলাম বোর্ডিং পাড়ার ঝিরি টার কাছে । রাফি তার ধুলাবালি পরিষ্কার করল আর আমি বসে থাকলাম একটা পাথর এর উপর কিছুক্ষণ । সময় ১১ টা বাজে সম্ভবত । বেশি দেরী করা যাবে না । আমি একটু তাগাদা দিয়ে একসাথে উঠে গেলাম পাড়া অপর পাশের বিশ্রী পাহাড় টার দিকে। এই নিয়ে চারবার আমার এই বিশ্রী পাহাড়টায় উঠানামা। কিছুদূর উঠার পর আমরা একটা জায়গায় বসলাম। ব্যাগ থেকে খেজুর এর একটা প্যাকেট বেড় করলাম । দুইজন এ ৪-৫ টা করে খেজুর আর পানি খেয়ে আবার উঠা শুরু করলাম।চোখে পড়ল তাজিংডং রোড এ আসা অসভ্য মানুষদের কাজকর্ম । যারা নিজেদের সামান্য পলিথিন কিংবা বিস্কুটের প্যাকেট ও বহন করতে পারে না । ফেলে রেখে গেছে তাদের সেই বর্জ্য গুলো । জিনিসটা আসলেই খুব চিন্তার বিষয় । আগামী ৪-৫ বছর পর এই রোড এ কি পরিমাণ পলিথিন পাওয়া যাবে তা ভাবতেই খারাপ লাগে । পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে উপভোগ করা লাগবে মানব সৃষ্ট এসব বর্জ্যের।
হঠাৎ করে মনে পড়লো । আরেহ! এখন তো বসন্ত । অবশ্য এমনি এমনি তো আর মনে হয় নি! আশেপাশের প্রকৃতি মনে করাতে একপ্রকার বাধ্য করেছে বলা যেতে পারে। চারপাশে ভ্রমর আর ফুলের এত সুন্দর গন্ধ! ছবি আর ভিডিও করলাম বেশ কয়েকটা । সময়ের হিসাব যেন একেবারে ভুলে বসেছি এমন অবস্থা । সামনে একটা জুমঘর পড়লো । একবার ভাবলাম ভিতরে যেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই । পরক্ষনেই মনে হলো এখনো অনেকটা রাস্তা বাকি।
বেশ খানিকটা হাঁটার পর বিশ্রী পাহাড় টা শেষ হলো । আবার ব্যাগ থেকে খেজুর এর প্যাকেট বের করলাম। কয়েকটা খেয়ে কিছুক্ষণ বসলাম । তারপর মই বেয়ে নিচে নেমে গেলাম ।
সময়ঃ ১২.২৩ | ২০ ফেব্রুয়ারি,২০২১
মই বেয়ে নেমে কিছুটা যেতেই হঠাৎ আমি পায়ে একটু একটু ব্যথা অনুভব করতে থাকি।রাফিকে বললাম একটু দাঁড়াইতে। পায়ে খেয়াল করে দেখি একটা আঙ্গুল এর নখ উল্টে গেছে। রক্ত পড়তেছে হালকা। মাথায় এক মুহূর্তের জন্য আসলো যে পারবো তো ! এখনো তো অনেকটা রাস্তা । ভুল বুঝতে পারলাম নিজের। নখ না কেটেই রওনা দিয়ে দিছিলাম । বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটা শিক্ষা পেলাম যে পাহাড় এ আসার আগে অবশ্যই পায়ের নখ ছোট করে আসতে হয় । এই জিনিসটা খেয়াল রাখা অতীব জরুরী। যাই হোক । কোনমতে উল্টানো নখটা ফেলে দিলাম। রাফি থেকে টিস্যু নিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করলাম। এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে। অগ্যতা আবার হাঁটা দিলাম। অবশ্য এখন নখ টা ফেলে দেওয়াতে জুতার মধ্যে লেগে কষ্ট পেতে হচ্ছে না । অল্প কিছুক্ষন এর মধ্যেই শেরকর পাড়া পৌঁছে গেলাম।
তবে শেরকর পাড়ায় ঢুকার আগে কিছু বেহায়া কুকুরদের পাল্লায় পড়লাম।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দৌড়ের উপর পাড়ায় ঢুকলাম। শেরকর পাড়ায়আপাতত দাঁড়ানোর কোনো প্ল্যান নেই। যথাসম্ভব পাড়া থেকে দ্রুত চলেযাওয়াই আপাতত প্ল্যান। আগেরবারের অভিজ্ঞতা থেকে আমি রাফিকেবললাম যে এইখানে দুইটা রুট আছে। একটা তাজিংডং এর দিকে গেছে, আরেকটা দোতং পাড়ার দিকে। তাই ম্যাপ নেভিগেশন টা ঠিকভাবে করতেহবে। পাড়ায় না দাড়িয়ে চলে গেলাম ঝিরির কাছে। ঝিরিতে এক ফোঁটাওপানি নাই। বোতলের পানিই ভরষা। ঝিরিতে বসেই কয়েকটা খেজুর খেয়েনিলাম। সামনে একটু উঠলেই তাজিংডং। মাঝপথে কয়েকটা গ্রুপের সাথেদেখা হলো। একটা গ্রুপের কিছু মেম্বার আমাদের হাতে বোতল দেখে পানিচাইলো। তৃষ্ণার্ত কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক না। তাই বোতল দিলাম পানিখেতে। কিন্তু বোতল অর্ধেক খালি করে ফিরত দিলো। কি আর করা। উপরেউঠতে থাকলাম। তাজিংডং এর মাঝের চূড়াটার ঠিক কিছু আগে দাঁড়ালামছবি তোলার জন্য। ছবি আর হালকা ভিডিও শেষে আবার রওনা দিলাম।রাফি বারবার জিজ্ঞেস করতেছিলো রাস্তা ঠিক আছে কিনা। তাজিংডং এরঅংশটা থেকে সামনে যেয়ে একটা সুন্দর ভিউ পেলাম। আবার কয়েকটা ছবিতুলে নিলাম। এই জায়গায় মোবাইলে একটু নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলো।বাসায় ফোন দিয়ে নিজের অবস্থানটা বললাম। মা বুঝতে পারলে না।সিমতলম্পি পাড়ার নামটা মেসেজ করে দিলাম। কথাবার্তা শেষ করেআবার রওনা দিলাম। সিমতলম্পি পাড়ার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম।কাঠের ব্রিজটা ক্রস করার টাইমে রুট মিলতেছিলো না। আমাদের রুট টাআরেকটু ঐ পাশ দিয়ে গেছে। এদিকে এখান দিয়ে যেহেতু রুট আছেই আরআমাদের উপরে ডান দিকের কোনো একটা জায়গায় রুট মিলবেই এটাভেবে রিস্ক নিয়ে নিলাম। একটু উপরে উঠতেই এক পাড়ার লোকের সাথেদেখা। পাড়ার লোক কোথায় যাচ্ছি জিজ্ঞেস করতে লাগলো। দ্রুত লোকটাকিছু বুঝার আগেই তাকে বিদ্যানন্দের লোক বলে ক্রস করে গেলাম। এবারপুরাতন সিমতলম্পি পাড়ার কাছাকাছি আসতেই আরো দুই পাড়ারছেলেদের সাথে দেখা। বয়স ১৭-১৮ এর আশেপাশে হতে পারে। হাতে একটাটাইগারের বোতল। আমাদের দেখেই কৌতুহল দৃষ্টিতে এগিয়ে আসলো।মনে মনে ভয় হলেও সাহস করে বললাম থান্দুই পাড়ার দিকে যাবো। দুপুরেএখনও খাইনি। ছেলেগুলা ভালোই ছিলো। কিছুক্ষন কথা বললাম।তারপর আমাদের রাস্তা দেখিয়ে দিলো। একটু যেতেই দেখি মেইন রোডেরমতো। ম্যাপ এর রুট আবার মেইন রোডের পাশ দিয়ে গেছে। সন্ধ্যা হয়েযাচ্ছে। তাড়াতাড়ি এই খাড়া অংশটুকু পার হতে হবে। বেশ খানিকটা পরহঠাৎ মানুষের শব্দ পেলাম। ভয়ে রাফি আর আমি জংগলের মধ্যে ঢুকেগেছিলাম। তবে শেষ রক্ষা হলো না। লোকগুলা দূর থেকেই শব্দ পেয়েছেজংগলে ঢুকার। কাছে আসতেই পরিচয় জিজ্ঞেস করলো। বললাম টুরিস্ট, রেমাক্রি যাবো।একটুপর তাদের বউ বাচ্চা আসলো। বুঝলাম থান্দুই পাড়ার লোক। তারা সিমতলম্পি পাড়ায় যাচ্ছে মেলা দেখতে। আজকে তাদের মেলা আছে শুনে মনে মনে খুশি হলাম। আরামসে তাহলে রাত্রের পথটাপাড়ি দেওয়া যাবে। তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে থান্দুই পাড়ার দিকে হাঁটা শুরু করলাম। মাঝখানে একটা কাটা গাছের উপর বসে খেজুর খেয়েনিলাম। কিন্তু অনেক আগেই পানি শেষ। পানি পিপাসা নিয়েই চলতেথাকলাম কারণ সময় খুবই কম। আরেকটা হার্টব্রেক এবার আর চাচ্ছি না।ঠিক সন্ধ্যার দিকেই পাড়ার বেড়া অতিক্রম করে পাড়ার মাঝ দিয়ে দ্রুতযাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু হায়! জিপিএস শুরু করলো ঝামেলা। একটারাস্তায় সামান্য এগিয়ে কাঠ কাটার লোক পেলাম। সে রেমাক্রি খালেযাওয়ার রাস্তা চিনে না। অবাক হইলাম। এদিকে ম্যাপ এ দেখাচ্ছে রুট থেকেবাইরে আমরা । আবার যেই জায়গা থেকে জিপিএস ঝামেলা করতেছিলোঐ জায়গায় ফিরত আসতেই পাড়ার এক ছোট্ট বাবু বলে দিলে ঐ দিক দিয়েরাস্তা। এই বলেই সে তার ঘরে দৌড় দিলো। দৌড়ের উপরে ঐ রাস্তায়খানিকটা আগালাম। যাক অবশেষে রুট মিলছে ম্যাপ এর সাথে। ততক্ষণেঅন্ধকার হয়ে গেছে। আর চারপাশে বিশাল আকৃতির একেকটা গাছ। হরেকরকমের পশুপাখির ডাক শুনতেছি। বলতে গেলে উসাইন বোল্টের গতিতেপাড়া থেকে অনেকটা দূরে চলে আসছি। মোবাইলের চার্জ কমে গেছে অনেকটা। অনেকটা খাড়া পাহাড় উঠতে হচ্ছে। একটু বসে খেজুর খেয়েমোবাইলে পাওয়ার ব্যাংক কানেক্ট করলাম। ততক্ষনে আকাশে চাঁদ বেসম্ভবভাবে আশেপাশে আলোকিত করছে। মনে হচ্ছিলো আহা, এই জায়গাটায় আজকে সারারাত কাটাতে পারলে কতই না ভালো হতো।
......will continue later to write


Comments
Post a Comment